কটিয়াদীতে সারানো হলো তিতাস গ্যাস পাইপলাইনের ছিদ্র, অবৈধভাবে গ্যাস লাইন ছিদ্র করা মামলায় গ্রেপ্তার ২

মাসুম পাঠান | কটিয়াদী
আগস্ট ৬, ২০২৬
কটিয়াদীতে সারানো হলো তিতাস গ্যাস পাইপলাইনের ছিদ্র, অবৈধভাবে গ্যাস লাইন ছিদ্র করা মামলায় গ্রেপ্তার ২

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে একটি চুনাপাথর কারখানায় অবৈধ গ্যাস-সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার ফলে তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের সঞ্চালন পাইপলাইনে ছিদ্র সৃষ্টির মামলায় সুলতান উদ্দিন আকন্দ ও মো. সুমন মিয়া নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের মধ্যে সুলতান উদ্দিন আকন্দ কাজীরচর গ্রামের শামসুদ্দীনের ছেলে এবং মো. সুমন মিয়া একই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

এ মামলার ১নং আসামি চুন তৈরির কারখানার মালিক ও গ্যাসের পাইপলাইন ছিদ্র করার মূল হোতা হোসেন তালুকদার পালিয়ে গেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া দু'জনই চুনাপাথর তৈরির কারখানার জন্য ভাড়া দেওয়া জমির মালিক।

এদিকে দীর্ঘ দেড় মাস পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার পর তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী ও কারিগরি দল তিন সপ্তাহ ব্যাপি প্রচেষ্টা চালিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ছিদ্র বন্ধ করতে সক্ষম হন এবং পাইপলাইন মেরামতের জন্য বন্ধ করে রাখা কিশোরগঞ্জের গ্যাস লাইন চালু করা হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে আসা উচ্চচাপের গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজীরচর অংশে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় পাইপলাইনে ছিদ্র সৃষ্টি হয়। ফলে প্রায় দেড় মাস ধরে উচ্চচাপের গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে বের হতে থাকে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় গ্যাস অপচয়ের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়। লিকেজ মেরামতের সময় কয়েক দিন কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

এ ঘটনায় তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর আওতায় কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চুনাপাথর কারখানার মালিক, জমির দুই মালিক এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে কটিয়াদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে অবৈধ চুনপাথর তৈরির কারখানাটি উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় ও বিতরণ অফিস (কিশোরগঞ্জ), আঞ্চলিক অপারেশন বিভাগ এবং প্রশাসন ও লিগ্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ গ্যাস-সংযোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা শাশীম হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে অবৈধ সংযোগের চেষ্টার কারণেই পাইপলাইনে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। টানা কারিগরি প্রচেষ্টার পর  সম্পূর্ণ মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, দীর্ঘ কারিগরি প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্যাস পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘদিন পাইপলাইন থেকে গ্যাস নির্গত হওয়ায় আনুমানিক ৫ কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হয়েছে। উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইনে অবৈধ সংযোগের চেষ্টা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুতর হুমকি। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কটিয়াদী'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ