সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. কামরুল ইসলাম (২৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে দেশটির রাজধানী রিয়াদের বানবান এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত কামরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের বেতাল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। তিনি রিয়াদের বানবান এলাকার আল মদিনা কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নাইট ডিউটি শেষে রুমে ফেরার পথে পানিবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে একটি লরি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় লরি গাড়িতে থাকা কামরুল ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তার মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে বাড়িতে জানান সৌদিপ্রবাসী একই এলাকার বিল্লাল মিয়া। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা জয়নাল আবেদীন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জয়নাল আবেদীন বলেন, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কোনো দিন ভাবিনি ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হবে। এক বছর আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এলে কামরুলকে বিয়ে করিয়েছিলাম। এখন ছেলের বউকে কী সান্ত্বনা দেব? বাড়িতে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করছিল সে। এখন সেই ঘরে কে থাকবে? আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
কামরুলের স্ত্রী খাদিজা আক্তার আখি বলেন, আল্লাহ আমাকে কি কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন! ২০২৫ সনে তিন মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসে আমাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। আজ সকালে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমি তার মুখখানা শেষ বারের মত দেখতে চাই। আমার স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।
মসূয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, কামরুলের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। কামরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।