বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

আবু হানিফ | জাতীয়
আগস্ট ১৬, ২০২৬
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য, আমাদের উদ্দেশ্য- বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন। আমাদের লক্ষ্য, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করলে, যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের মানুষের ভাগ্য বিশেষ করে গ্রামে থাকা মানুষগুলোর ভাগ্য, উপজেলায় থাকা মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন হবে, ধীরে ধীরে আমরা সেই কাজগুলো করতে চাই। সে কারণেই আমরা খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ অভিযান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্কুলের বাচ্চাদেরকে পোশাক পৌঁছে দেওয়া, তাদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, স্কুলগুলোকে ঠিক করা, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদেরকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা, এই কাজগুলো আমরা করতে চাই।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ জেলা সফরের শুরুতে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষ্যে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অর্থাৎ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল- বিএনপিকে আপনারা জয়যুক্ত করেছিলেন। কারণ বিএনপি’র রাজনীতিটাই হচ্ছে এমন একটা রাজনীতি- যেই রাজনীতির বাস্তবায়ন করলে পরে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে, এটাই হচ্ছে বিএনপি’র রাজনীতি। সে কারণেই আমরা চাই, এই রাজনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে, দেশের দায়িত্ব যতবার অর্পণ করেছে, আমরা দেখেছি কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, যে পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম, এই মাছের অবমুক্তকরণ, এই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বাচ্চাদেরকে মানুষরূপে গড়ে তোলা সুন্দর নাগরিক হিসেবে, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা, এইগুলো যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? হাজার হাজার জনতা তখন সমস্বরে জবাব দেন- হ্যাঁ।

তারেক রহমান পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, এই যে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে কি গ্রামের মানুষের পানির চাহিদা ও সেচের সুবিধা বাস্তবায়িত হবে? আবারও জনতার পক্ষ থেকে জবাব আসে- হ্যাঁ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এসব কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে, যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা দেশের মানুষকে মিথ্যে কথা বলে বিভ্রান্তি তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা জানি, আমরা দেখেছি, আমরা দেখছি এখনো, যে স্বৈরাচার এ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, যারা বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকারকে গলা টিপে মারতে চেয়েছিলো, যারা বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নিতে চেয়েছিলো, যারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনকে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলো, তাদের বিরুদ্ধে এই বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিলো এবং তাদেরকে এই দেশ থেকে তারা বিতাড়িত করে দিয়েছে।

তারেক রহমান যোগ করেন, এখন সময় হচ্ছে কাজ করার। এখন সময় হচ্ছে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। দেশকে যদি আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারি তাহলে এই দেশের মানুষকে কষ্ট করে থাকতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত দিনে কিভাবে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছিলো। সেই পাচারকারীদেরকে এই দেশের মানুষ বিতাড়িত করে দিয়েছে এই দেশ থেকে।

সেইজন্য এখন সময় হচ্ছে আমাদেরক সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ শুরু করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করতে হবে। আমাদেরকে একসাথে হাতে হাত রেখে কাজ শুরু করতে হবে। দেশ পুনর্গঠনের কাজ আমাদেরকে করতে হবে। কারণ এই দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। এই দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে বাংলাদেশের জনগণেরই সামনে এগিয়ে আসতে হবে।

এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে যদি সমুন্নত রাখতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণকে যেই ছাত্রজনতা ২৪ এর ৫ই আগস্ট রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছিলো, সেই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা এই দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলবে, যারা এই দেশের মানুষের জন্য নেওয়া বাস্তব পদক্ষেপগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি, একদিনে সকল সমস্যার সমাধান হবে না। যেভাবে স্বৈরাচার এ দেশের অর্থনীতি বলেন, এই দেশের পররাষ্ট্র নিয়ে বলেন, এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বলেন, এই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলেন, প্রত্যেকটি ব্যবস্থাকে ধ্বংসপ্রাপ্ত করে দিয়ে গিয়েছিলো, সেই আমরা সরকার গঠন করার পরে দেশের সকল অবস্থাকে আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত পেয়েছি। সেজন্য আমাদেরকে ধ্বংস থেকে গড়ে তুলতে হচ্ছে। এই যে এখানকার ব্রিজ, রাস্তার কথা এমপি সাহেব বললেন, যদি দেশের উন্নয়নই হতো, তাহলে এই কাজগুলো এত বছরেও হলো না কেন? এই জন্যই হয় নাই কারণ এর আগে যারা দেশের শাসনভার দখল করে নিয়ে রেখেছিলো, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলো না। তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলো এবং সেজনই তারা জনগণের জন্য কোনো কাজ করে নাই।

বিদ্যুতের সমস্যার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি, আমি জানি, সমগ্র দেশের মানুষ বিভিন্ন শুধু ঢাকা শহর না, ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশের সকল মানুষ, জেলা-উপজেলার বহু মানুষ বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন এই মুহূর্তে। কিন্তু এই যে বিদ্যুতের সমস্যা এই সমস্যা যে স্বৈরাচারকে এদেশের মানুষ বিতাড়িত করেছে, তাদের অপরিকল্পিত পরিকল্পনার জন্য, অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য আজকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির এই অবস্থা। আপনারা যেহেতু বিএনপিকে নির্বাচিত করেছেন, বিএনপি দেশের মানুষের দল। বিএনপি এ দেশের স্বার্থেই কাজ করবে। বিএনপি এ দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করবে। আগামী ২৭ তারিখে আবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সেই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আপনাদের দল, আপনাদের সরকার, দেশের মানুষের সামনে জাতীয় সংসদের মধ্যে উপস্থাপন করবে- কিভাবে আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী ১০ বছর এই দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবো। সেই পরিকল্পনা আমরা দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করবো পবিত্র জাতীয় সংসদে।

আজ বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে এই যখন সমস্যা, এই যখন সংকট, যেকোনো সংকট যদি মোকাবেলা করতে হয়, ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে আমাদেরকে। যেকোনো সংকট যদি মোকাবেলা করতে হয়, ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা গ্রহণ করে ধীরে ধীরে সংকটের মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়-রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়- সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের চাকরি-বাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সকল বিশৃঙ্খলাকারী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা। সে কারণেই আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি। এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন- এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে, সেই সমর্থনের উপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের নির্বাচিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের জন্য অতীতেও কাজ করেছে, বর্তমানেও কাজ করবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।

আসুন আজকে আমরা সকলেই শপথ গ্রহণ করি, সকলে প্রতিজ্ঞা করি, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ জনগণের সকল শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে দেশের শান্তি রক্ষা করতে হবে। দেশের মানুষ এখন দেশের শান্তি চায়। দেশের মানুষ এখন শৃঙ্খলা চায়। আইনের শাসন চায়। দেশের মানুষ কর্মসংস্থান চায়। দেশের মানুষ তার সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়। দেশের মানুষ তার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য্য সহকারে অবস্থান নিতে হবে, ধৈর্য্য সহকারে আমাদেরকে সময়ের জন্য ধীরে ধীরে সময়কে সুযোগ দিতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, ১২ তারিখে যেভাবে সমর্থন দিয়ে আপনারা আস্থা রেখেছিলেন বিএনপি’র উপরে, পরিষ্কারভাবে আমি বলে দিতে চাই- ইনশাআল্লাহ আপনারা আস্থা ধরে রাখুন, বিএনপি আপনাদের সাথে ছিলো, বিএনপি বাংলাদেশর জনগণের পাশে আছে, সাথে আছে, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে যতদিন বিএনপি টিকে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

এ সময় কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান এবং পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে সকাল ১১টা ২৪ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পৌঁছান। মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিকতা তিনি শুরু করেন। ঢাকার বাইরে কোনো জেলায় দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬ প্রদান করেন। সেখানে মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানমুখী করতে দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে স্থানীয় তরুণদের মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা সদরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিল কার্ড বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ৪৩২ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, ৫টি মন্দিরের ১০ জন পুরোহিত এবং একটি গীর্জার ২ জন যাজকসহ মোট ৪৪৪ জনকে সম্মানী প্রদানের মাধ্যমে তিনি এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া তিনি ল্যাপটপের বাটন প্রেস করে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৪৫৭ জন নারীর মোবাইল ফোনে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে যায়। ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী দুইজন নারী অনুষ্ঠানে অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া অনুদান পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী জ্যোতি রাণী দাস, অনুষ্ঠানমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চাকরির নিয়োগপত্র পাওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী আনিসুর রহমান, ইমাম আমান উল্লাহ, পুরোহিত দীপেন্দ্র চক্রবর্তী, সেভেস্থ-ডে অ্যাডভেন্টিষ্ট চার্চের যাজক উইথ ক্লেব রং অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওরে উড়াল সেতু বাস্তবায়নের দাবি জানান।

মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং সমাজকল্যাণ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে। অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কি করেছে। সেই অতীত বিবেচনা করে তাদেরকে আমাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কি করছে, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি ৭১-এ তাদের ভূমিকা কী ছিলো। আমরা দেখেছি ৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিলো। আমরা দেখেছি ৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিলো। আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে তাদেরকে আমরা রাজপথে দেখিনি।

পুরাতন স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যান। সেখানে তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং জেলা ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জাতীয়'র অন্যান্য খবর

দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি, কিশোরগঞ্জে অবহিতকরণ সভা

দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি, কিশোরগঞ্জে অবহিতকরণ সভা

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন ফজলুর রহমান এমপি

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন ফজলুর রহমান এমপি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচি ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচি ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জুলাইয়ের পর থেকে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

জুলাইয়ের পর থেকে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

তারিক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের ৪ মামলা

তারিক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের ৪ মামলা

কমলাপুর থেকে ট্রেনের টিকিটেই বিআরটিসি বাসে যেতে পারবেন যাত্রীরা

কমলাপুর থেকে ট্রেনের টিকিটেই বিআরটিসি বাসে যেতে পারবেন যাত্রীরা

সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

ইসির নির্বাচনী প্রস্তুতি জেনে গেল ইইউ, সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস

ইসির নির্বাচনী প্রস্তুতি জেনে গেল ইইউ, সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস

সর্বশেষ