প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীবাসী। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো উপজেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, নানা আলোচনা আর প্রত্যাশায় সরগরম কটিয়াদী। তবে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখা কিংবা তাঁর বক্তব্য শোনার আগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানা উন্নয়ন-প্রত্যাশা।
আগামী রবিবার (১৬ আগস্ট) কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মৎস্য দিবস-২০২৬ এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। রাজধানীর বাইরে এবারই প্রথম জাতীয় মৎস্য দিবসের মূল আয়োজন হচ্ছে কটিয়াদীতে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন।
এরপর দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য দিবসের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন ও উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখা উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং সফল উদ্যোক্তাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কটিয়াদীবাসী: প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি বক্তব্য শুনতে অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে এই অপেক্ষা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কটিয়াদীবাসীর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা।
উন্নয়নের দাবিতে প্রত্যাশার তালিকা: স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান দাবি ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা। পাশাপাশি কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া-ইটাখোলা আঞ্চলিক সড়কের স্থায়ী সংস্কার ও প্রশস্তকরণ, কালিয়াচাপড়া চিনিকল পুনরায় চালু, কটিয়াদীতে গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মৎস্য খাতকে আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলার দাবি রয়েছে।
বিশেষ করে ইটাখোলা-মঠখোলা-কটিয়াদী আঞ্চলিক মহাসড়কের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সড়কটির বিভিন্ন অংশে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা- সাময়িক জোড়াতালি নয়, প্রয়োজন টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার।
মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনা: হাওর, বিল, নদী ও জলাশয়সমৃদ্ধ কটিয়াদীতে মৎস্য উৎপাদনের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কটিয়াদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে পারে।
জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় আয়োজন কটিয়াদীতে হওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ অঞ্চলের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার নতুন সুযোগ পাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে তাই নিছক একটি সরকারি কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না কটিয়াদীবাসী। তাঁদের কাছে এটি দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। সড়ক যোগাযোগ থেকে কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে গ্যাস সরবরাহ এবং মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন- সব ক্ষেত্রেই নতুন উদ্যোগের প্রত্যাশা তাঁদের।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে কটিয়াদীতে এখন সাজসাজ রব। মাঠে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আর মানুষের মনে চলছে অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটাই প্রত্যাশা- প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কটিয়াদীর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।