শুরু জানা নেই। চালু আছে মিথ। তাও প্রায় ৫শ বছরের পুরনো। দীর্ঘ দশ বছর পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর ঐতিহ্য সেই প্রাগৈতিহাসিক নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে মেঘনার শাখা ঘোড়াউত্রা নদীতে এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নৌকাবাইচ দেখতে সেখানে ঢল নামে জনতার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে নৌকাবাইচ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নিকলীর ইউএনও শামীম আরা, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকারম সর্দার, হাজী মাশুক প্রমুখ।
মোট দশটি নৌকা বাইচে অংশগ্রহণ করে। মোহরকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইল এক্সপ্রেস যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে। পুরস্কার হিসাবে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও টিভি বিজয়ীদের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন অতিথিরা। অংশগ্রহণকারী সকল দলকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়।
জানা যায়, প্রায় ৫শ বছর পূর্বে নিকলী উপজেলার সোয়াইজনী নদী কুলের গোবিন্দপুর এলাকায় চন্দ্রনাথ গোস্বামী একটি সুরম্য আখড়া গড়ে তোলেন। কোন এক ভাদ্রের ১ তারিখে মানবী বেশে সেই ঘাটে জল নিতে আসেন মনুষা দেবী। রুপে মুগ্ধ হন হাওরে মাছ শিকারী দুই যুবক। নৌকা ভিড়িয়ে দুজনেই করেন প্রেম নিবেদন।
নির্মল নিবেদনে মুগ্ধ হন দেবীও। মানুষ আর দেবীর অসম প্রেম হবার নয়। সরল প্রেমিকদ্বয়ের বিরহ কষ্ট দিতে চান না দেবী। দুজনকে তাদের নৌকায় বাইচের প্রস্তাব করেন।এক কিলোমিটার দূরের বিশেষ স্থাপত্যকলায় নির্মিত লাল গোঁসাইর আখড়া হতে বাইচের তলা নির্ধারণ করে দেন। বাইচে দুই যুবকের নৌকাই একসাথে ঘাটে ভিড়ে।
দুজনের পাণি গ্রহণ সম্ভব নয় বলে নিজেকে দায়মুক্ত করেন দেবী। যুবকদ্বয়ের নির্মল প্রেমের স্বীকৃতি স্বরুপ প্রতি বছর ভাদ্রের ১ তারিখে এই বাইচ আয়োজনের নির্দেশ দিয়ে যান।
সেই থেকে অদ্যাবধি সোয়াইজনী নদীতে লাল গোসাইর আখড়া হতে চন্দ্রনাথ গোসাইর আখড়া পর্যন্ত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিলো। কালক্রমে হাওর জনপদের সবচে' বড় ও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে উৎসবে পরিণত হয়। আত্মীয়স্বজন, জামাই নিমন্ত্রণ, পিঠা পুলি, ঘাটু, জারি-সারিগানে নিজস্ব এক আলাদা সংস্কৃতি।
বর্তমানে সোয়াইজনী নদী নাব্যতা হারানোয় বাইচটি ঘোড়াউত্রায় স্থানান্তর ও আর্থসামাজিক কারণে বাইচের তারিখ পরিবর্তন হয়ে থাকে।