কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা সদরে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. সাইদুল হক বিএসসি, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি আলি কাওছার রনি, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাসান আল মামুন, আফজাল হোসেন জুয়েলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, আখতারুজ্জামান রঞ্জনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে দ্রুত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
মামলায় পুলিশ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
এক দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার (৪ অক্টোবর) তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।