কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আমেনা আক্তার শিমু (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা ও দাদি আহত হয়েছেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অষ্টঘরিয়া গ্রামের নয়াবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এ হতাহতের ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত আমেনা আক্তার শিমু অষ্টঘরিয়া গ্রামের মো. সাইদুর রহমানের মেয়ে। আহতরা হলেন- নিহত আমেনার মা শিখা আক্তার ও দাদি জোসনা আক্তার।
নিহতের বাবা মো. সাইদুর রহমান জানান, তাদের বসতঘর থেকে পাশের দাদির ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সংযোগের তারে ত্রুটি থাকায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বৃষ্টির পানিতে দাদির ঘরটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে।
বৃষ্টির মধ্যে আমেনা দাদির ঘরে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে যান তার মা শিখা আক্তার ও দাদি জোসনা আক্তার। তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরিবারের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিমুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিখা আক্তার ও জোৎস্না আক্তারকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ঈশা খান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আমেনা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।
আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের অষ্টঘরিয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুখলেছুর রহমান ছন্দু জানান, অষ্টঘরিয়া গ্রামের নয়াবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আমেনা আক্তার শিমুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা ও দাদি আহত হয়েছেন।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মারা যাওয়া কিশোরী আমেনা আক্তার শিমুর সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।