কটিয়াদীতে সাবেক এমপি মেজর আখতারের ছেলেকে ছুরিকাঘাত, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

কটিয়াদী প্রতিনিধি | কটিয়াদী
নভেম্বর ৫, ২০২৬
কটিয়াদীতে সাবেক এমপি মেজর আখতারের ছেলেকে ছুরিকাঘাত, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে (৪০) ছুরিকাঘাত করে মাদকাসক্তরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন শাহরিয়ারের বাবা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গচিহাটা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনায় রাতেই লিমন মিয়া (৩০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত শাহরিয়ার জামান রানা সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে ও উপজেলার সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। আটক লিমন মিয়া একই ইউনিয়নের গচিহাটা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে।

আহত রানার ছোট ভাই মো. সাব্বির জামান রনি জানান, বড় ভাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার খিঁচুনি শুরু হয়। দ্রুত তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ নভেম্বর) মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত গচিহাটা কলেজ মাঠে কয়েকজন যুবক ও কিশোর মাদক সেবন করছিল। কলেজের পাশ দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে শাহরিয়ার জামান রানা তাদের মাদক সেবন করতে দেখে বাধা দেন এবং গালিগালাজ করে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেন।
এ সময় আফতাব উদ্দিন নামে এক কিশোর মাঠ থেকে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে রানা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে আফতাব বাড়িতে গিয়ে তার চাচা তাজুল ইসলাম ও এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাজুল ইসলাম ঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে কিছু লোকজনসহ গচিহাটা বাজারে রানাকে খুঁজতে থাকেন।

বুধবার ((৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে গচিহাটা বাজারের চিত্রা ফার্মেসিতে বসেছিলেন শাহরিয়ার জামান রানা। এ সময় তাজুল ইসলাম সেখানে ঢুকে রানার বুকের ডান হাতের নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

শাহরিয়ারের বাবা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে বলেন, গচিহাটা বাজারে তাঁর ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে স্থানীয় মাদকাসক্ত ও বিএনপির কিছু লোক জড়িত। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেনি। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত আসামি দেওয়ার জন্য।
মেজর আখতার বলেন, ঘটনাটি বাজারে ঘটেছে, সবাই দেখেছেও।  অজ্ঞাত আসামি দিলে পুলিশের বাণিজ্যে সুবিধা হয়, অহেতুক মানুষকে হয়রানি করতে সুবিধা হয়। তবে আমি কাউকে হয়রানি করতে চাই না।

তবে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে এতে কিছু সংশোধনীর প্রয়োজন থাকায় বাদীকে তা সংশোধন করে দিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

এ হামলার ঘটনায় শাহরিয়ার চাচা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কটিয়াদী'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ