মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কক্ষে তালা ঝুলালো গ্রামবাসী

বিজয় কর রতন, মিঠামইন | মিঠামইন
মে ২০, ২০২৫
মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কক্ষে তালা ঝুলালো গ্রামবাসী

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী বরণীর বিরুদ্ধে ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য হুমায়ুন কবির ও মাদ্রাসার ল্যাব অপারেটর তারেক মিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন।

এ রকম পরিস্থিতিতে গত রবিবার (১৮ মে) চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অভিভাবক, শিক্ষক, এলাকার সচেতন নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী বরণীর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাদ্রাসায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।

চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী বরণী উপজেলা ওলামা লীগ সভাপতি। তার বিরুদ্ধে বিগত ৫ আগস্ট মিঠামইনে বিএনপি অফিস ভাঙচুরের মামলা রয়েছে।

ওই মামলায় তিনি গত ২৯ মার্চ ঘাগড়া বাজার থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

অভিযোগকারী হুমায়ুন কবির ও তারেক নিয়া জানান, গত ১ ডিসেম্বর তারা অভিযোগ দেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২ ডিসেম্বর ৭৫২ নং পত্র মোতাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজকে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগকারীগণকে বিগত ৩১ ডিসেম্বর চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় প্রমাণাদি সহ উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। যথারীতি অভিযোগকারীগণ যাবতীয় প্রমাণসহ কাগজপত্র ও বিল ভাউচার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করেন।

তদন্ত শেষ করে রিপোর্টের ব্যাপারে শিক্ষা অফিসে খোঁজ  নিতে গেলে শিক্ষা কর্মকর্তা নানান কথা বলে তদন্ত রিপোর্ট আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যান। ফলে দীর্ঘ ৫ মাসেও তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়নি। আদৌ তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখবে কি না এ নিয়ে অভিযোগকারীরা সংশয়ে রয়েছেন।

এ রকম পরিস্থিতিতে গত রবিবার (১৮ মে) চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অভিভাবক, শিক্ষক, এলাকার সচেতন নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী বরণীর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাদ্রাসায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগকারী হুমায়ুন কবির ও তারেক মিয়া তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ মাদ্রাসায় ইয়াকুব আলী বরণী নিয়োগ পান। তিনি উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি। দলীয় প্রভাব বিস্তার করে তৎকালীন সময়ে এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন।

টিউশন ফি এর কাজে অফিস থেকে ২৮২৯০ টাকা নিয়ে যান। ২০১৯ সালে মাদ্রাসার অডিট এর জন্য ঘুষ দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক কর্মচারীর বেতন থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে যান। বিগত  ১৯/১/২০২৪ ইং পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু কমিটির তৎকালীন সভাপতির স্বাক্ষর দিয়ে ৩০/০১/২০২৪ ও ০৬/০২/২০২৪ ইং তারিখ জনতা ব্যাংক ঘাগড়া শাখা থেকে দুটি চেক এর মাধ্যমে ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যান। কিন্তু কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই সময় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা উত্তোলনের স্বাক্ষর নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে।

মাদ্রাসার প্রশংসাপত্র বিতরণের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে কোনো রশিদ ছাড়া ১ হাজার করে টাকা নেন। জেডিসির সনদ বিতরণের সময় একই কায়দায় ১ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেন। এমন ভাবে ১৫ বছর যাবৎ নিয়েছেন, যা প্রায় ৭ লাখ টাকা।

দাখিল পরীক্ষা ফরম পূরণে নিতেন ৫ হাজার টাকা। কিন্তু রশিদ দিতেন ১৮০০ টাকার। এর পর ক্যাশ থেকে ভাউচার বিহীন হাজার হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজে ব্যয় করতেন।

মাদ্রাসার পুকুর ভরাটের জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু এই টাকা তিনি মাদ্রাসার ক্যাশ থেকে নিয়ে ভুয়া ভাউচারে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করেন।

কমিটি গঠন, নবায়ন, অনুমোদন, টিউশন ফি সহ অন্যান্য কাজে কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা বলে তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করে নিজে ব্যয় করেন। ২০২২/২৩ অর্থ বছরে মাদ্রাসায় আলিম পাঠদানের অনুমতি নিতে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার ভাউচার করে ফেলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন খাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী বরণী বলেন, আওয়ামী লীগ করার কারণে তারা এ সকল অভিযোগ দায়ের করছেন। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি।

মাদ্রাসার অফিস কক্ষে  তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন বলে জানান।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুর্শিদুল আলম জানান, অভিযোগকারী হুমায়ুন কবির ও তারেক মিয়ার অভিযোগ সত্য। ইয়াকুব আলী বরণী অধ্যক্ষ থাকাকালে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। তখনকার সময় দলীয় প্রভাবের কারণে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি। শুধু মাত্র ১৫ বছরে শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র ও সনদ বিতরণে ৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছেন। এ সকল টাকার কোনো ভাউচার নেই।

মিঠামইন'র অন্যান্য খবর

মিঠামইনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের আলোচনা ও সচেতনতামূলক মহড়া

মিঠামইনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের আলোচনা ও সচেতনতামূলক মহড়া

মিঠামইনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের আলোচনা ও আনন্দ শোভাযাত্রা

মিঠামইনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের আলোচনা ও আনন্দ শোভাযাত্রা

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা খোকাসহ গ্রেপ্তার ২

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা খোকাসহ গ্রেপ্তার ২

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে মিঠামইনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে মিঠামইনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

মিঠামইনে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতি

মিঠামইনে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতি

মিঠামইনে বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

মিঠামইনে বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

মিঠামইনে প্রধান শিক্ষিকার বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার

মিঠামইনে প্রধান শিক্ষিকার বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার

আওয়ামী লীগের যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে তাদের বাবার নাম গোলাম আযম: ফজলুর রহমান এমপি

আওয়ামী লীগের যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে তাদের বাবার নাম গোলাম আযম: ফজলুর রহমান এমপি

সর্বশেষ