সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তার বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা, আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কলেজছাত্রকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এর মধ্যে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ। অন্যদিকে রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পরিষদ মার্কেটে দলীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ জানান, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে ছুরিকাঘাহত হওয়ার ঘটনার পর তিনি তাকে ফোন করেছিলেন। পরদিন সকালে ঘটনাটি তদন্ত করে তিনজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এ ঘটনায় বিএনপির নাম জড়ানোর কোনো কারণ নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ বলেন, যে বিএনপি মেজর আখতারুজ্জামানকে রাজনৈতিক পরিচিতি দিয়েছে, সেই দলের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে মেজর আখতার জাতীয় পরিচয়ের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত বর্তমান জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলেকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার আগে গচিহাটা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জয়কে মাদক সেবনের সন্দেহে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরেই পরবর্তী ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। কিন্তু এ ঘটনায় বিএনপির দোষ কোথায়? বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় নিরপরাধ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেছে। তারা এ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
একই সঙ্গে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আফতাব উদ্দিন জয়কে মারধরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।