ভৈরবের পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

আফসার হোসেন তূর্জা | ভৈরব
জুলাই ২০, ২০২৬
ভৈরবের পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে পার্সেল করে কাফনের সাদা কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি ও চিরকুট পাঠিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে তিনি তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুকের স্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ নামে একটি হোমিও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছেন। এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে গত রবিবার (১৯ জুলাই) ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় একটি পার্সেল আসে।

পার্সেলটি ভৈরবের এস.এ পরিবহন শাখা থেকে পাঠানো। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ এবং একটি মোবাইল নম্বর (০১৭৩৮৮-৩৩৩২৯) উল্লেখ করা হয়। আর প্রাপক হিসেবে মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।

ওই দিন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার ছেলে মুন্তাসির মাহমুদ ঈশান বেলা ১২টা ২০ মিনিটে পার্সেলটি রিসিভ করেন। পরে বাসায় গিয়ে বাক্সটি খুলে ভেতরে কাফনের ১ গজ সাদা কাপড়, ১টি গোলাপ জল, ১টি আগরবাতি এবং হুমকির একটি চিরকুট দেখতে পান।

চিরকুটে লেখা রয়েছে- “আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।”

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, আমি দীর্ঘ চার বছরেরও অধিক সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পৌরসভার কোনো কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে আমি কখনো প্রশ্রয় দেইনি। সরকারি বিধি রক্ষায় আমাকে সবসময় কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে।

আমি ধারণা করছি, এই কঠোর ও আপসহীন ভূমিকার কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে। একটি মানুষকে সরাসরি কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে পার্সেল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং পার্সেলের প্রেরক ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ভৈরব'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ