ডেঙ্গু ও হাম রোগীদের চিকিৎসা সেবায় আলো ছড়াচ্ছে সৈয়দ নজরুল মেডিকেল

স্টাফ রিপোর্টার | এক্সক্লুসিভ
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ডেঙ্গু ও হাম রোগীদের চিকিৎসা সেবায় আলো ছড়াচ্ছে সৈয়দ নজরুল মেডিকেল

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

গত জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৬৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হয়নি। ২৩২ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিন জন রোগী অন্যত্র চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যার কারণে ডেঙ্গু চিকিৎসায় আস্থা ও ভরসার নাম হয়ে ওঠেছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

একই ভাবে হাম রোগীদের চিকিৎসায় দৃষ্টান্ত গড়েছে হাসপাতালটি। চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ৮ মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে মোট ১৪৩৯ জন শিশু চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩৯৩ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে।

বর্তমানে ৩৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ডেঙ্গুর মতো হামে আক্রান্ত হয়েও এ হাসপাতালে কোনো রোগী মারা যায়নি। চিকিৎসক-নার্সসহ জনবলের ঘাটতি থাকার পরও ডেঙ্গু ও হাম রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালটি প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

হাসপাতালটিকে আরো সেবা ও রোগীবান্ধব হাসপাতালে পরিণত করতে বিদ্যমান সমস্যা ও চাহিদা নিয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এ ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম।

‘মিট দ্য প্রেস’ এ অন্যদের মধ্যে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবর রহমান, উপাধ্যক্ষ ডা. মো. একরাম আহসান জুয়েল, কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, জেলা ড্যাব এর সাবেক সভাপতি ডা. মো. আতিকুল সারোয়ার, ড্যাব শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মীর নুর উস সাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এতে সাংবাদিকদের জানানো হয়, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই শয্যার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটিতে মোট ৭৯৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন যা নির্ধারিত শয্যার চেয়ে ২৯৫টি বেশি।

অথচ হাসপাতালটিতে অনুমোদিত জনবলের একটি বড় অংশ শূন্য রয়েছে। ১২৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮৬ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও ৩৭টি পদ শূন্য রয়েছে। কম জনবল দিয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ২০০ জন রোগী ডায়ালাইসিস করার জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। ৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন দিয়ে তিন শিফটে ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে। ডায়ালাইসিস মেশিন বাড়ানো অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালটিতে বার্ন ইউনিট, ইউরোলজি, নিউরো সার্জারি, ইমারজেন্সী ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ নেই। তাই সেসব রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ডেডিকেটেড বিদ্যুৎ লাইন না থাকায় প্রায়শই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা বিঘিœত হয়।

এছাড়া বিগত নির্বাচনের আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করায় হাসপাতালে প্রায়ই চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। হাসপাতালটি শহরের বাইরে হওয়ায় সেখানে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরী।

‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠান থেকে এসব সমস্যা ও চাহিদাসমূহ পূরণের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দালাল ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে এখানে যেনো রোগীরা সেবা নিতে পারে সেটি আমরা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সকলের সহযোগিতায় একটি উন্নত, আধুনিক ও রোগীবান্ধব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তুলতে চাই।

এক্সক্লুসিভ'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ