আল্লাহর ঘরেই জীবনের শেষ সিজদা: আসরের নামাজরত অবস্থায় না ফেরার দেশে তারা মিয়া

স্টাফ রিপোর্টার | কটিয়াদী
জুলাই ২০, ২০২৬
আল্লাহর ঘরেই জীবনের শেষ সিজদা: আসরের নামাজরত অবস্থায় না ফেরার দেশে তারা মিয়া

প্রতিদিনের মতোই ওজু করে মসজিদে গিয়েছিলেন মহান আল্লাহর দরবারে দাঁড়াতে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জামাতে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। কেউ ভাবতেও পারেননি, এটাই হবে তাঁর জীবনের শেষ নামাজ।

ইবাদতের মাঝেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তারা মিয়া (৬৫)। হাসপাতালে নেওয়া হলেও আর ফিরে আসেননি। আজানের সুরে এসে এভাবেই শেষ হলো এক মুমিনের দুনিয়ার সফর।

তারা মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার বাগরাইট এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী পূর্বপাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

তিনি রবিবার (১৯ জুলাই) কটিয়াদী দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজরত অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর এ বিদায়ে দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদ এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন বিনয়ী, সৎ, ধর্মপরায়ণ ও সদালাপী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো রবিবার (১৯ ‍জুলাই) তারা মিয়া আসরের নামাজের আজান শুনে সময়মতো মসজিদে যান। মসজিদে নামাজরত অবস্থাতেই হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন।

মুহূর্তেই ছুটে আসেন মুসল্লিরা। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “তারা মিয়া অত্যন্ত ভালো, সৎ ও পরহেজগার মানুষ ছিলেন। তিনি মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। আসরের নামাজ আদায়ের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।”

তারা মিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও সহ-মুসল্লিদের চোখে ছিল অশ্রু। অনেকেই স্মরণ করেছেন তাঁর হাসিমুখ, নম্র ব্যবহার ও ইবাদতের প্রতি গভীর অনুরাগের কথা।

জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন মহান আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন। তাই স্থানীয় অনেকেই বলছেন, একজন মুমিনের জন্য ইবাদতের মাঝেই রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাওয়ার চেয়ে সৌভাগ্যের বিদায় আর কী হতে পারে।

তাঁর বিদায়ে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকাহত হয়েছে পুরো মহল্লা। সবাই মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

কটিয়াদী'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ