কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বর্ষাগাতী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নানা অসংগতি দেখা দিয়েছে। হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির এক রকম তথ্য থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া গেছে ভিন্ন চিত্র।
ইবতেদায়ি শাখার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত হাজিরা খাতায় ১২০ জন ছাত্রীর উপস্থিতির তথ্য থাকলেও সরেজমিনে ১০ জন ছাত্রীকে উপস্থিত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও হাজিরা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসাটিতে সরেজমিনে গিয়ে ইবতেদায়ি শাখায় কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে আসে। অথচ এ শাখায় শিক্ষক রয়েছেন। ফলে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি, নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবে কতটা পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসাটির দাখিল শাখায় শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন এবং ইবতেদায়ি শাখায় তিনজন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ইবতেদায়ি শাখায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি না থাকা এবং হাজিরা খাতার তথ্যের সঙ্গে সরেজমিনের চিত্রের অমিল স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো ছাত্রী প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কেন তারা মাদ্রাসায় আসে না, জানতে চাইলে অভিভাবকেরা বিভিন্ন অজুহাত দেখান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, মাদ্রাসাটির বিষয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “শিক্ষক আছে, ছাত্রী নেই—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির যে হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব চিত্রের অমিল কেন? ইবতেদায়ি শাখায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি না থাকলে সেখানে পাঠদান কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে? শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এ অবস্থায় মাদ্রাসাটির প্রকৃত শিক্ষার্থীসংখ্যা, শ্রেণিভিত্তিক ভর্তি ও উপস্থিতির রেকর্ড, হাজিরা খাতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন এবং প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি সুযোগ-সুবিধার ব্যবহার নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।